https://khabor.soumitra.itlab.solutions/

3783

international

ভাল আছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ০৪ এপ্রিল ২০২৩ ০১:৫৭ | আপডেট : ৩০ নভেম্বর -০০০১ ০০:০০

330201699_3102501086717449_4944151006537950707_nMujib's Banhladesh এই নামে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ গত ৮ মার্চ । মুজিবের বাংলাদেশে আপনাকে স্বাগত, এ রকম একটি সাইন চোখে পড়ল কাতার এয়ার থেকে ঢাকায় নামার পর । জাতির জনকের নানা ছবির একটি গ্যালারী। এয়ারপোর্ট এটার প্রয়োজন ছিল না। এয়ারপোর্ট যত যাত্রী, তার কাছাকাছি নানা ব্যাজধারী স্বেচ্ছাসেবক। খুবই বিরক্তিকর। তবে ফ্রি ফোন, নানা হেল্প ডেস্ক,ইনভেষ্টার ডেস্ক চোখে পড়ল। তবে আরো কিছু বন্ধ অফিস আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরকে বেমানান করেছে। ৫ বছর পর দেশে গেলাম, অনেক পরিবর্তন। হযরত শাহাজালাল (র:) বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এর বৃহদাকার কনস্ট্রাকশন চলমান। বিশ্বমানের বিমান বন্দর হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেমানান লেগেছে ইউনাইটেড এয়ার ও জিএমজি এয়ারের পরিত্যক্ত বিমানগুলো দৃশ্যমান। এগুলো সরানো জরুরী। দেউলিয়া হয়ে যাওয়া বিমান কেন পড়ে থাকবে !   যারাই বিদেশ থেকে যান তাদের ডমেস্টিক বিমান ব্যবহার করতে হয়। আমিও সিলেট যাবার জন্য ডমেস্টিক টার্মিনাল এ গেলাম, আমার সাথে দেখা করতে ডক্টর জাফর ইকবাল, টি এম জাহাঙ্গীর, এডভোকেট শাহরিয়ার,ভায়েলেট লিনা বায়েন এসেছিলেন ফুল নিয়ে। একটি শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়েটিংরুমে আমরা বসলাম  বিমান বন্দরে কোন টানা হেচড়া নেই, তবে অযথা লোকজন বেশী। সাহায্যকারীরা ও পুলিশ সবাইকে স্যার সম্বোধন করছে। অনেক ফরেনার ভিসা ছাড়া এসেছেন, তারা এরাইভ্যাল ভিসা নিচ্ছেন। সিলেট বিমান বন্দর অনেক পরিচ্ছন্ন, ঝামেলাহীন। কোন অহেতুক লোক টার্মিনাল এ প্রবেশ করতে পারে না।  সিলেট ক্যাডেট কলেজের সামনে হিজড়া পার্টি গাড়ী আটকায়,চাদা দাবী করে। আমার ১৩ দিনের দেশে অবস্থান কালে দুবার গাড়ী আটকিয়েছিল। এ সামাজিক সমস্যা সিলেটের শহর বন্দর উপজেলায়। এদের নষ্টামি সীমা অতিক্রম করেছে। পুলিশ প্রশাসন কে অবহিত করেছি। তারা নিষ্কিয় ভুমিকায়।   ১৩ দিনে সিলেটের বিশ্বনাথ,বালাগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, ছাতক, কুলাউড়া ও আাখাউড়াতে যাবার সুযোগ ঘটেছিল। দেশটাকে দেখার সুযোগ ঘটেছিল ভাল করে। বাংলাদেশ কেমন আছে? অবশ্যই বাংলাদেশ ভাল আছে। বাংলাদেশের মানুষের জীবনের মান দুই গুন জাম্প মেরেছে। মানুষ স্বাবলম্বী, সবাই কিছু করে খেতে পারে। হাত পাতার মানুষের সংখ্যা কম। ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ আমি প্রতি ৫ বছর পর পর দেশে গিয়েছি। ২০১৩ ও ২০১৮ সালে আমার পরিচিত জন যাদের ব্যাংক ঋন নিয়ে ব্যবসা করতে দেখেছি, তারা দেউলিয়া হয়ে দেশান্তরি। ১৮ শতাংশ সুদের টাকায় ব্যবসা করে তারা কয়েক বছর ভাল চললেও তাদের বাসা বাড়ী সব ব্যাংক নিয়ে গেছে। যদিও এর পেছনে অতি লোভ ও অপরিণামদর্শীতা দায়ী। কোন মধ্যবিত্ত ব্যাবসায়ী ১৮ শতাংশ সুদে টিকে থাকতে পারবে না। এটা একটা ম্যাসেজ। সিলেট শহরটা মেগা সিটি। সিটি কর্পোরেশন এ গেলাম। অনেকগুলো পতাকাবাহী গাড়ী, জয়েন্ট সেক্রেটারি টাইপের অনেক কর্মকর্তা। তবে সিটি কর্পোরেশনের অফিসটা অসম্পুর্ন।   মেয়র আরিফুল হকের সাথে দেখা হল না, উনার অসূস্থতাজনিত কারনে দেখার সুযোগ ঘটেনি। তিনি শহরটাকে অনেক সুন্দর সাজিয়েছেন। নতুন যিনি মেয়র হবেন তিনি তার ধারাবাহিকতা রাখবেন। সিলেটের অনেক গুলো ছড়ার উপর ওয়াকওয়ে, মানিকপীর টিলা সৌন্দর্যময় হয়েছে, ধোপাদিঘির পারে সুন্দর একটি লেক, শহরের অলি গলির রাস্তা বড় হয়েছে। ময়লা ফেলার আধুনিক ট্রাক দেখলাম। শহরের বাসা বাাড়ীর ময়লা সিস্টেমিক ওয়ে কালেক্ট হচ্ছে। সব কিছুই সুন্দর।   তবে সিলেটের সিএনজির নিয়ন্ত্রীন জরুরী, সিএনজির সংখ্যা নিয়ন্ত্রীন করতে হবে। এই সিএনজি ওয়ালারা সিটি বাসকে অকার্যকর করে রেখেছে। বাস গুলো খালি চলে। কয়েক হাজার সিএনজি সরাতে হবে।। এদের সিটি পারমিটে আনতে হবে।। এক কালারের সিএনজি শহরে চলবে। অন্য কালার উপজেলায় চলবে।   কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, কাউন্সিলর উজ্জ্বল ও প্যানেল মেয়র তৌফিক বকস লিপনের সাথে দেখা হল। তিনজনই তাদের ওয়ার্ডে যুগান্তকারী কাজ করছেন। প্যানেল মেয়র আমার বন্ধু তৌফিক বকস জানালেন, সিটি মেগা সিটি হয়ে গেলেও আমাদের প্রযুক্তিমনা হবার আগ্রহ কম। এখন ওয়ার্ড সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করার জন্য ই গর্ভন্যান্স চালু করতে হবে, এবং সবাইকে উপযোগী হতে হবে।   বাংলাদেশের বাজেট এবার ৭ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে। বাংলাদেশটা বিশ্বের কাছে বিরাট মার্কেট। যারা ভাল মানের ব্যবসা করতে চান, তাদের জন্য বাংলাদেশে এ সুযোগটা রয়েছে। ব্যাংক গুলো বিনিয়োগে উ্যসাহী করছে। আপনি যদি কনফিডেন্স নিয়ে এগুতে থাকেন তাহলে সাফল্য আসবেই।   জনজীবনের ব্যায় বেড়েছে । বাজারে আগুন। কথাটা সত্য, বাসা ভাড়া অনেক, তাও সত্য। গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা তাও সত্য,মোরগ ২৬০ টাকা তাও সত্য। তবে এর পাশাপাশি মানুষের আয়ও বেড়ে গেছে।   আমি ১৩ দিনে হোটেলের ওয়েটার,দিনমজুর,সিএনজি চালক, রিস্কাচালক, বাগানের কুলি সবার সাথে কথা বলেছি। হোটেলের মেসিয়ার বা ওয়েটার ৬০০ টাকা দৈনিক আয় করে, একজন সিএনজি চালজ ১৫০০ টাকা আয় করেন, একজন নির্মান শ্রমিক ৬৫০ টাকা আয় করেন দিনে , রিস্কা চালক ৫০০ টাকা আয় করেন, বাগানের কুলি বাগানে ১২০ টাকা - বাগানের বাহিরে কাজ করলে ৫৫০/৬০০ টাকা আয় করেন। চুল কাটতে ৫০ টাকা লাগে, জুতা রং করতে ৩০ টাকা দিতে হয়, বাসায় যে সব মহিলারা কাজ করেন দুই ঘন্টায় তিন কাজ করেন ৩০০০/৪০০০ টাকা মাসে। বুয়া তিন / চার বাসায় কাজ করলে ১৫/১৬ হাজার আয় করেন। এখন অনেকের বুজতে অসুবিুধে হবে জীবনের মান কত ধাপ বেড়েছে। তবে বাচ্চাদের পড়ানোর খরছ বেড়েছে, সাথে সব গুলো বাসায় ৯০০ টাকার ওয়াইফাই রাখতে হয়। তবে ওয়াইফাই থাকলে মোবাইলে ব্যালেন্স কম থাকলে চলে।   বাংলাদেশ, আমাদের সোনার বাংলা। আপনি হঠাত  করে ৮/১০ বছর পর গেলেন ৩ সপ্তাহের জন্য। আপনি হোচট খাবেন, যারা থাকেন তারা সহনীয় হয়েই দিন যাপন করেন। ফেসবুক পেজ দিয়ে অনেকেই নানা কাজে জড়িত, কেউ কাপড় বেচে,কেউ মেক আপ করে, কেউ কেক বানায়,কেউ মেহেদী দেয়,কেউ ইভেন্ট প্লান করে,কেউ আউটসোর্সিং করে, কেউ ইনটেরিয়র করে,কেউ নানা কনটেন্ট বানায়। কেউ বেকার থাকতে চায় না। তাই বাংলাদেশ সচল।  আর যারা অলস, তারা সারা জীবন দেশ- সরকার, পরিবার কে দোষারোপ করবেই।   বাংলাদেশটা তারমতই ভাল আছে। উন্নয়ন গতিশীল।  পদ্মা সেতুতে রেল ও চলে। বাংলাদেশ সোনার বাংলা নয়। বাংলাদেশ ডায়মন্ড বাংলা। আর যারা চুরি করে লুটপাট করে, তারা দেশে বিদেশে সব জায়গায় করে। হারাম আয় তাদের কাছে সহনীয়। মসজিদের জুতা চুর আর ব্যাংক চুর একই গোত্রের। বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সততায় তার জীবন যাপনের চেষ্টা করে। তাই দেশটা শ্রীলংকা বা পাকিস্তান হয়ে যায় নি।   আপন স্বকীয়তা আমার দেশ আমার অহংকার।