https://khabor.soumitra.itlab.solutions/

3887

opinion

বাংলাদেশের গতি হারানো প্রবৃদ্ধির হালখাতা: সুনীল অর্থনীতির স্বর্ণদ্বার খুলে গেলো 

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০২৩ ১১:৪৫ | আপডেট : ৩০ নভেম্বর -০০০১ ০০:০০

00122Blue economy 003আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা ১৪৩০ সালের প্রথম দিন, নতুন বাংলা বর্ষের  এ দিনটি  নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা  অনুপ্রেরণা নিয়ে আসে ব্যক্তি ও দেশের জন্য।  আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, সীমাবদ্ধতা ও বিদ্বেষের অবসান ঘটিয়ে আমরা এগুতে চাই  একটি সুখী, সমৃদ্বশালী, আত্মনির্ভর ও  উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থায় । রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় যখন গোটা বিশ্বে একটি ঘোমট অবস্থা।   গতি হারানো বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির আঁচরে ক্ষত বিক্ষত বিশ্বের প্রায় সকল জাতি গোষ্ঠী, যখন  দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ক্রমবর্ধমান সুদহার নিয়ে নেই কোনো ভবিষ্যদ্বাণী,  বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সাসটেইন গ্রোথ বা শক্তিশালী কাঠামোগত সংস্কারের হয়ে পড়েছে অপরিহার্য্য ঠিক তখন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীল অর্থনীতির অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের অর্থনীতির বাক পরিবর্তনে এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারেনা, যদি লাল ফিতার দৌরাত্ব ও দুর্নীতির লাগাম টেনে  অমিত এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়.   গত মঙ্গলবার(১১ এপ্রিল, ২০২৩) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী  এই নির্দেশ প্রদান করেন।  একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ নির্দেশ দেয়া হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এ বিষয়ে সাংবদিকদের ব্রিফ করেন।  পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেক সভায় পরিবেশ উন্নয়নসহ ১১ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৬৫৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩ হাজার ১২৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১০ হাজার ৫২৬ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।   পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, সরকার যখন ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন করে, তখন মূলত নীল অর্থনীতির বিষয়টি সামনে আসে। তিনি বলেন, ডেল্টা প্লানে নীল অর্থনীতির জন্য একটি পৃথক অধ্যায় রাখা হয়েছে। যেখানে ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের জন্য তহবিল সংগ্রহে ‘ব্লু বন্ড’ চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইত্যেমধ্যে অনেক দেশ এ ধরনের বন্ড ইস্যু করেছে। আমরাও যখন নীল অর্থনীতির সম্ভাবানাকে আরও আকর্ষনীয় করতে পারবো, তখন এ ধরনের বন্ড ইস্যু করা যেতে পারে।  প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সুমদ্র সীমার রায়ের পর বহু বছর অতিবাহিত হলেও সমন্বিত প্রচেস্টার অভাবে নীল অর্থনীতির অগ্রগতি তেমন হচ্ছে না। নীল অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিতে ডেল্টা উইং গঠন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।(সূত্র বাসস)   "ব্লু ইকোনমি" সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য সংরক্ষণের সাথে সাথে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবহার বোঝায়। ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা বিশাল এবং বিশ্বকে অনেক সুবিধা দিতে পারে। এখানে বৃদ্ধির কিছু সম্ভাব্য ক্ষেত্র রয়েছে:   মৎস্য ও জলজ চাষ: বিশ্বের মহাসাগর গুলো মাছ এবং সামুদ্রিক খাবারের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যেখানে টেকসই ফসল সংগ্রহ এবং জলজ চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। এটি উপকূলীয় সম্প্রদায়ের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা, জীবিকা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ প্রদানের পাশাপাশি সামুদ্রিক খাবারের বাণিজ্য ও রপ্তানিতে সহায়তা করতে পারে।   পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি: সমুদ্র অফশোর বায়ু, জোয়ার এবং তরঙ্গ শক্তি সহ পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের জন্য অপার সম্ভাবনার প্রস্তাব করে। পরিচ্ছন্ন শক্তির এই উৎসগুলি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করতে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে শক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে অবদান রাখতে পারে।   সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তি: মহাসাগর গুলি অনন্য জেনেটিক সংস্থান সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক জীবের আবাসস্থল যা চিকিৎসা, শিল্প এবং কৃষি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। সামুদ্রিক জৈবপ্রযুক্তিতে নতুন ওষুধ, বায়ো একটিভ যৌগ এবং বায়োপ্লাস্টিক বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা উদ্ভাবন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালাতে পারে।   পর্যটন এবং বিনোদন: স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং এবং উপকূলীয় ক্রুজের মতো ক্রিয়াকলাপ সহ উপকূলীয় এবং সামুদ্রিক পর্যটন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল উপকূলীয় অঞ্চলে রাজস্ব তৈরি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। টেকসই পর্যটন অনুশীলন সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সচেতনতা ও উন্নীত করতে পারে।   মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট এন্ড লজিস্টিক: ব্লু ইকোনমি সামুদ্রিক পরিবহন ও লজিস্টিক বৃদ্ধি থেকে উপকৃত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে শিপিং, বন্দর উন্নয়ন এবং উপকূলীয় অবকাঠামো। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সংযোগ সহজতর করতে পারে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।   মহাসাগর শাসন এবং সংরক্ষণ: কার্যকর সমুদ্র শাসন এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থা, যেমন সামুদ্রিক সুরক্ষিত এলাকা, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নীল অর্থনীতির স্থায়িত্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করতে পারে, জীববৈচিত্র্য বজায় রাখতে পারে এবং নীল অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনাকে রক্ষা করতে পারে।   জলবায়ু অভিযোজন এবং স্থিতিস্থাপকতা: ব্লু ইকোনমি জলবায়ু অভিযোজন এবং স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা পালন করতে পারে, কারণ এটি উপকূলীয় সম্প্রদায়গুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব গুলোর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ প্রদান করতে পারে, যেমন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় ক্ষয় উদাহরণস্বরূপ, উপকূলীয় অবকাঠামো, স্থিতিস্থাপক উপকূলীয় সম্প্রদায় এবং ইকোসিস্টেম-ভিত্তিক পদ্ধতিতে বিনিয়োগ উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু-সম্পর্কিত ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষমতা বাড়াতে পারে।   দ্য স্টেপ টু হিউম্যানিটি অ্যাসোসিয়েশন, কানাডা ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা, বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করছে । অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ উত্তর আমেরিকান জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সাথে সহযোগিতায়, বাংলাদেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলায় দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, চিকিৎসা সুবিধার অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলির মতো সমস্যাগুলি মোকাবেলার জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা ও নিয়েছে। সুনীল অর্থনীতি নিয়ে সংস্থাগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এডভোকেসি করে আসছে।  সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাওয়া প্রধান মন্ত্রীর ঘোষণায় উচ্ছসিত এ সেক্টর সকল সুবিধাভোগী সংস্থা, সংগঠন ও স্টেক হোল্ডার গণ.    উপসংহারে, বাংলা বর্ষের অনুপ্রেরণা  নিয়ে ব্লু ইকোনমিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাগুলি উপলব্ধি করার জন্য দায়ী এবং টেকসই অনুশীলন, শক্তিশালী শাসন ব্যবস্থা এবং একটি সামগ্রিক পদ্ধতির প্রয়োজন যা অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত বিবেচনার ভারসাম্য বজায় রাখে। বাংলাদেশ সরকার ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এর উন্নয়ন, অন্বেষণ ও প্রচারের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের গতি হারানো প্রবৃদ্ধির হালখাতায় সুনীল অর্থনীতি চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বছরের শ্রেষ্ঠ উপহার।