https://khabor.soumitra.itlab.solutions/

3932

art-literature

কবিতার এক পাতা এপ্রিল সংখ্যা

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল ২০২৩ ০২:০৯ | আপডেট : ৩০ নভেম্বর -০০০১ ০০:০০

Kobita1সুশির মলাটে মৃত ম্যাকরিল  শামীম আজাদ    আপনি ভাল আছেন তো, প্রিয়তম?   আপনার নামে এখনো গলে যায় মধু ও মাখন তত্ত্বের তখতে তাউসে  ভাজা হয় রোদের ওমলেট।   এই যে এ কাচের শহর,  কাটাঘাসে জরায়ুর ঘ্রাণ,  আপনারই কারনে হে মহাত্মন এখানেই রাত্রি গভীর হলে শুরু হয় পুরাণপাখিদের মহার্ঘ্য বয়ান। দুপুরে মাছরঙা জলে চলে সাদা সাদা সেমিজের আশ্চর্য সাঁতার।   আপনি যেদিন ওয়েস্টএন্ড পাবে  দারিদা-দোহারে গেলাস ভরে ভরে বেনিয়া প্রায় ব্যস্ত ছিলেন  ব্যাপক বিক্রিবাট্টায়  নিষ্ঠাবতী এই আমি সেদিনই, এক চিলতে ফোঁকরের অজুহাতে ফোঁপাতে ফোঁপাতে নিজস্ব এক ফাগুনের বিনির্মাণ শুরু করেছিলাম।    কিন্তু কখন আপনার দীর্ঘ খাদি হুমায়ুনের মত হিমুর হলুদ হয়ে গেল? সেলফি আক্রান্ত এই আপনাকে যে আর চিনতেই পারছি না!   হে আমার মুগ্ধ বাতায়ন,  আপনিই না শিখিয়েছিলেন  আঙুর বাগান ফেলে  গৌরবের ঘ্রাণ নেবার পবিত্র কৌশল?  অহংকারের ঘাড় অস্থিশূন্য করে পুঁতেছিলেন সুগন্ধী রজনীগন্ধার গুচ্ছ!    তা'হলে কার ঔরসে জন্ম নিচ্ছে শত শত পূর্ণিমাজীবি পাপ  আয়ু:প্রাপ্ত হচ্ছে গুচ্ছ গুচ্ছ শয়তান?    আপনি সত্যিই ভাল আছেন তো হে প্রিয়তম? নাকি অন্ধমতি আমিই  পোড়া প্রেমে পাগল হয়ে নিঃশেষিত দেহখানে  জল ঢেলে চলেছি অবিরল?         নীল ফুল ঝর্না রহমান     যতবারই আমি তোমার কাছে এসেছি, দেখেছি নগ্নতার ভেতরে তুমি সন্ন্যাস বৃক্ষ জড়িয়ে ধরে বসে আছো। অজস্র শব্দের মৌমাছি তোমার গায়ে হুল ফোটাচ্ছে, আর তুমি দিব্যি ফুল ফোটাচ্ছো। আমি তোমার সামনে দুহাত বাড়িয়ে দাঁড়াই। আলিঙ্গনের জড়িমা মাখা হাতে নিমীলিত চোখে তুমি এক ফোঁটা নীল ঢেলে বল, এই নাও সর্বময় মন্থনমধু। বার বার নীল মধু খেয়ে খেয়ে আমার ঠোঁটজোড়া এখন আর চুম্বনের জন্য অধীর হয় না। অস্ফুট চুমুর শব্দগুলো দিয়ে আমিও নীল ফুল ফোটাতে শিখে গেছি। আমার দুয়ারে শেকড় ছড়িয়ে দিচ্ছে সন্ন্যাসবৃক্ষ। জলগুল্ম কলমিলতায় নীল হয়ে ফুটে থাকে আমার তীব্র তৃষিত নীলভেজা ওষ্ঠপুট।       বরিশাল থেকে রিচমন্ডহিলঃ কবির জার্নি (কবি ইকবাল হাসান স্মরণ) ফারুক ফয়সল   পশ্চিমে আজ বসন্ত তার মেলে দিয়েছে পাখা ঝলমলে সব রোদেলা দিন ছড়িয়ে হাসি উদ্বাহু নাচে তোমার লেখার টেবিলের ওপারে চেরি ফুলের হাতছানি বসন্ত বাতাসে সাদা-গোলাপি পাপড়িগুলো যেন নাগরদোলায় দোলে।   থাণ্ডার বে’ হ’তে মাইকেল গ্যারন হসপিটাল বেশি দূর তো নয় ! কেন তবে তুমি চেনা আয়েশ আর অভ্যস্ত পরিচর্যা ছেড়ে, গিয়েছিলে ঘুমোতে সেখানে নতুন দেশে আগন্তুক অতিথির মতো? প্রিয় স্বদেশে বসন্ত তার ফুলের পোশাক ছেড়ে মঙ্গল শোভাযাত্রায় সামিল। তোমার অতি চেনা প্রিয় টাইম স্কয়ার চেনা রুপ ছেড়ে পহেলা বৈশাখ, লাল-সাদা-নীল। বাঙালির চিরন্তন এই উৎসবে তুমি নতুন কবিতা লিংখলে না তো !   “চলে যাবো—মুমূর্ষু বৃদ্ধ যেমন বিষণ্ণ লাঠিতে ভর দিয়ে টুক টুক শব্দ তুলে স্টেশন পেরিয়ে চলে যায়” তোমারই তো কথা, এমন করেই তো যাওয়ার কথা ছিল! কথা না রাখার মানুষ তো তুমি নও, এমন প্রস্থান কেন তবে ? প্রেমের কবিতা লিখে মায়া বাড়াতে চাও নি আর, তাই কি গুটিয়ে নিলে, প্রাচ্যের ভেনিস বরিশাল ভুলে রিচমন্ড হিলের লেসলি স্ট্রীটে শেষ ঠাঁই গড়লে !   কবিতার মাস এপ্রিলে প্রেমের কবিতায় কবিতার এক পাতা প্রকাশিত হলো, ‘প্রেমের কবিতা’ বইখানি হাতে তোমাকে লিখতে তোমার কথাই উদ্ধৃতি পেল!       বসন্তমৌসুমের কফিসন্ধ্যাগুলো শিউল মনজুর   বসন্তমৌসুম শেষ হতে চলেছে, অথচ তোমার আমার কফি সন্ধ্যাগুলো একদিনও জমে ওঠেনি, এ কথা বলতেই তুমি বললে, রাষ্ট্রযন্ত্রের রক্তচক্ষুর বারান্দায় বসে কখনো স্বপ্ন সাজানো যায় না, তুমি আরও বললে, সকালের চা পর্বটিও আজকাল গলির মোড়ের ছোট্ট রেস্টুরেন্টের মতো মুখরিত নয় !   প্রথমে ভেবেছিলাম, তুমি হয়তো কোথাও দু:খ পেয়েছো, কিন্তু পরের কথাগুলো শুনে আরও শঙ্কিত হলাম, বললে, প্রযুক্তি আইনের জটিল সমীকরণে তোমার আমার মুক্ত বাসনার প্রেমপত্রগুলো ভিন্ন ভিন্ন দূতাবাসের ঠিকানায় চলে যাচ্ছে, এমন কী বিমানযাত্রা অথবা দূরপাল্লার বাসযাত্রায় আমরা কেউ কারো বিশ্বস্ত বন্ধু হতে পারছি না…         নিষ্ক্রান্তি  তুষার গায়েন      ভারী বর্ষণ শেষে বৃষ্টির অপভ্রংশ ব্যাপ্ত হয়ে আছে  ধূসর নীলাভ বিষাদ আকাশে। বাষ্পরুদ্ধ চোখ যেভাবে দেখে  চলে যাওয়া তার উদ্গত কান্না চেপে !    যে-পাথর জমেছে বুকে অগণিত কাল খরস্রোতা ঝর্ণা কি টেনে নেবে গড়িয়ে গড়িয়ে  তাদের মসৃণ ও গোল করে দিতে?    কতদূর যেতে পারে সে?   মিহি জলকণা,  নিষ্ক্রান্তি নেই তার অদূর ভবিষ্যতে।          গার্হস্থ্য শিবলী মোকতাদির   খানিকটা রস দিয়ে বশে আনা ভালো তবু বিচিত্র রং ঘেটে বেদনায় এঁকেছ এই দেহ ভালোবাসা— সে এক পৌরাণিক পরিহাস, পুরাতন প্রত্নকথা নগদে কুশল কামনা করো যেন আমি শরবিদ্ধ হই; তিল-তিসির গন্ধে ছুটে বেড়াই মাজার থেকে মাজারে।   সাঁওতাল থেকে শাবরীর ধারায় তোমাকে খুঁজি ততদিনে বক্রনদী সরল গতিতে দাঁড়ায় তোমার সকল স্নানে আমার গার্হস্থ্য ভেসে যায় শরমে ধর্ম হারায়।   কার্তিকে খেতখামার নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভালো বাকিটা বাঁক অন্ধ বিড়ালের মতো নিঃশব্দে পেরিয়ে যাব যখন একগুচ্ছ চাঁদ নিয়ে জেগে উঠবে বিতর্কিত রাত!         ছোট শহরের কবিতা মুজিব ইরম     যে বাড়িতে তুমি থাকো ছোট এ-শহরে, কাঁঠালি চাঁপার ঘ্রাণ ঘিরে থাকে, হাস্নাহেনা বেফানা বানায়… গন্ধরাজ ফুটে থাকে, ফুটে থাকে কামিনী কুসুম, রাধাচূড়া কৃষ্ণচূড়া সোনালু জারুল … পার হলে পুষ্পিত তোরণ, বাগান বিলাস, নাগ কেশরের ফুল, ফুটে থাকে রোদ, করবী কুসুম, ফুটে থাকে নির্জনতা সুরেলা দুপুর… আর সেই গলা সাধা সুর।   তোমার শহরে যাই, গলিতে গলিতে ঘুরি, এই সব বুকে নিয়ে ফিরে আসি, জবা কুসুমের ডালে, কচু ফুলে, পাতা ফুলে, গেন্ডা ফুলে বাসনা সাজাই, তোমার নামেই আমি বেদনা বাজাই।           ভালোবাসলে রুদ্রশংকর   ভালোবাসলে একদিন পিঁপড়ের মতো পাখা ওঠে অনেকগুলো না-বলা কথা কবিতা হয়ে যায়  হে আলো, হে অন্ধকার, যতটুকু পার ছিঁড়ে খাও আমাকে    এই দ্যাখো, আমার কষ্ট সইতে পারা ঠোঁট, আমার অযত্নে পুড়ে যাওয়া ঘুমের নাম রেখেছি আনন্দ মন খুলে তর্কের পর কেউ ভালোবাসলে বড় খুশি হই।