https://khabor.soumitra.itlab.solutions/

3626

social-media

প্রথম আলো-আমার ভালোবাসার জায়গা

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০২৩ ০৩:৪৮ | আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০২:০১

palonyফেসবুক যাদের ধ্বংস করে তারা একটা দলের লোক। আরেকটা দল আছে তারা পৃথিবী থেকে শুধু নেন। যেমন গোয়ালা দুধ থেকে ননী ছেঁকে নেন। আমার জীবনেও এমনটি ঘটেছে বহুবার। ফেসবুক নেয়ার থেকে আমাকে দিয়েছে অনেক বেশি। সে হিসাব দিতে গেলে আজকের লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে। অতএব, সে থাক।

আমি প্রায় পাঁচ বছর আগে ফেসবুকে পরিচিত হই কবি ও সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী সাহেবের সাথে। নানা সময় কথাও হয় তার সাথে। গত বছর আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি আমার জন্য রামপুরা টিভি সেন্টারের পেছন থেকে বের হচ্ছে ‘আজকের পত্রিকা; ওখানে একটু ট্রাই করেন। আমার সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। তিনি আমাকে সাথে সাথেই পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক সেলিম খানের নাম ও নম্বর দিলেন। আর বললেন, আপনি যান, আমি তাকে বলে দিচ্ছি। বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ তার এক লেখায় বলেছিলেন, ‘কাব্য হিংসা অমর হোক।’ ঠিক এমনই একটা হিংসায় ইব্রাহীম চৌধুরী বলে দেয়ার পরও আজকের পত্রিকায় আমার চাকরি হয়নি। যাক সে কথা, আমরা বলছিলাম ফেসবুক নিয়ে- ইব্রাহীম চৌধুরী সাহেবের মাধ্যমে আমি পরিচিত হয় এইচ বি রিতার সঙ্গে। কবি রিতা একজন নিপাট ভদ্র মানুষ। বিনয়ী। বিশেষ করে তার নিয়মিত লেখা আমাকে বেশ ভাবায়। আমেরিকার মতো একটা জায়গায় থেকে একটা মানুষ কীভাবে এত লেখেন। পড়েন। নিয়মিত রক্ষা করেন সবার সাথে

যোগাযোগ। আমি আবারও বলছি, মানুষটির দুর্দমনীয় কর্মকাণ্ড নিয়ে- তার লেখা সাবলীল-সুন্দর। একই সাথে জটিল, গুরুগম্ভীর সব কবিতা। সচল-সুন্দর থাকুন আজীবন প্রিয় রিতা আপু।

গত এক-দেড় বছর ধরে আমি নিয়মিত উত্তর আমেরিকা থেকে প্রকাশিত প্রথম আলোতে গল্প-কবিতা লিখছি। নেটে যখনই আমি প্রথম আলো দেখি, চোখ রাখি সবগুলো পাতায়। কী নেই প্রথম আলোতে। রাজনীতি, দেশ-বিদেশ, ভ্রমণ, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাহিত্য-সন্দর্ভ। বিজ্ঞাপন-ভালো লাগার সবকিছুই পাওয়া যায় উত্তর আমেরিকা থেকে প্রকাশিত প্রথম আলোতে।

কবি এইচ বি রিতার জন্য যখন এ লেখাটা লিখছি, তখন কী ভেবে, লেখা ছেড়ে পেছনে ঘুরে টিভি স্ক্রিনের দিকে তাকালাম, দেখলাম সেখানে ভেসে উঠেছে- একজন বাবা তার হাতে থাকা রিমোটটি বারবার টিপছেন কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। অর্থাৎ টিভিটা অন হচ্ছে না। দ্রুত বাবা একজন টিভি মেকারকে ডাকলেন। মেকার রমিজ টিভিটা দেখার পর ব্যাক পার্ট খুললেন। দেখলেন সেখানে ছোট ছোট অনেক পাউরুটির টুকরো। যার জন্য সেখানে ইঁদুর ঢুকে টিভির তার কেটে দিয়েছে। বাবা বুঝলেন, এটা তার ছোট ছেলের কাজ। ডাকলেন ছেলেকে- বললেন, তুমি এসব করেছ? ছেলেটা নীরব। বাবা একটু ধমকের সুরে বললেন, কেনো করেছ এসব? তখন ছেলেটি কান্নাভেজা কণ্ঠে বলল, টিভিতে দেখেছি আমার বয়েসি ও আরও ছোট ছোট অনেক ছেলে না খেয়ে মারা যাচ্ছে। ক্ষুধার জন্য হাউ-মাউ করছে। তাই ওদের রুটি দিয়েছি।

যা বোঝার বুঝে গেলেন বাবা। ছেলেকে আর না বকে বুকে টেনে নিলেন। বাবার চোখের সামনেও ভেসে উঠলো, সোমালিয়া, ইউক্রেন- না খেয়ে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো।

যাক, আমরা বলছিলাম প্রথম আলোর কথা। সেখানেই ফিরে যাই- উত্তর আমেরিকা থেকে প্রকাশিত প্রথম আলো আমার জন্য গর্ব। আমার ভালোবাসার জায়গা। দ্য লাস্ট কিস, সেফটিফিন, প্রহরের প্রথম রৌদ্র ও পথে যেতে যেতে (গল্প)। এসবের জন্য আমি দেশ-বিদেশে অনেক সুনাম অর্জন করেছি। আমেরিকা, লন্ডন, ফ্লোরিডা, প্যারিস, দিল্লি থেকেও আমার লেখা ছাপা হয়। প্যারিস থেকে স্রোত আহমেদ ‘আমি গলে গলে যাবো’- আমার যে কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন ফেসবুকে, তার কয়েক হাজার ভিউ দেখা যাচ্ছে। কলকাতা, ত্রিপুরা ও আসামে আমি প্রচুর লিখেছি। সবকিছু ছাপিয়ে আমি বলবো, উত্তর আমেরিকা আমাকে অনেক দিয়েছে। অনেক পেয়েছি আমি। অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী ও এইচ বি রিতা- আপনাদের জন্য সবসময় শুভ কামনা রইলো।

উত্তর আমেরিকা থেকে প্রকাশিত প্রথম আলো পরিবারের সবার জন্য রাইলো আমার অবিরাম ভালোবাসা। আপনাদের শ্রম ও মেধা প্রতিনিয়তই মানুষকে সমৃদ্ধ করছে। আমরা প্রথম আলোর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করছি। ভালো থাকবেন সবসময়।